
নিউজ ডেক্সঃ- বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নে বিএনপির এক শ্রমিক দল নেতার বিরুদ্ধে এক সাংবাদিকের ক্রয়কৃত জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে জানা যায়, রাজিহার ইউনিয়ন বিএনপির শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মোঃ শাহআলম ফকির এবং তার ছোট ভাই মোঃ লোকমান ফকির (পিতা: লালচাঁন ফকির), উভয়েই মালো গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ১২ বছর আগে লোকমান ফকিরের শ্বশুর মোঃ শাহজাহান হাওলাদার (পিতা: মুহাম্মদ হাওলাদার), গৌরনদী উপজেলার দিয়াশুর গ্রামের বাসিন্দা, তার বাপ-দাদার ভিটেমাটি বিক্রি করে রাজিহার ইউনিয়নের মালো গ্রামে বসবাসের উদ্দেশ্যে ৪৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন।
২০০৯ সালে উক্ত জমি হরিপদ আইচ (পিতা: দেবেন্দ্রনাথ আইচ), রাজিহার ইউনিয়নের বাসিন্দার কাছ থেকে ক্রয় করা হয়। পরবর্তীতে প্রায় তিন বছর পর লোকমান ফকির খাজনা গ্রহণ করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে শাহজাহান হাওলাদার খাজনা চাইতে গেলে তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শাহজাহান হাওলাদার বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মোঃ হাফিজুল রহমান হাফিজের কাছে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের মাধ্যমে ৭ মে ২০২৫ ইং তারিখে একটি অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রদান করে জমি হস্তান্তর করেন।
পরবর্তীতে হাফিজুল রহমান হাফিজের কাছ থেকে জাতীয় দৈনিক ইনকিলাব ও বরিশাল ভোরের আলো-এর গৌরনদী উপজেলা প্রতিনিধি এবং গৌরনদী সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মেহেদী হাসান ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে মোট ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদ দিয়ে এবং সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ৯১ হাজার টাকার পে-অর্ডার প্রদান করে সাফ-কবলা দলিল সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি তিনি ১৪ বছরের খাজনা পরিশোধ করে নামজারি সম্পন্ন করেন।
দলিল ও রেকর্ড অনুযায়ী জমির দখল বুঝে নিতে গেলে লোকমান ফকির ও তার স্ত্রী সেখানে থাকা পানের বরজ সরানোর জন্য এক মাস সময় চান। সময় পার হলেও তারা বরজ সরাতে অনীহা প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ মেহেদী হাসান আগৈলঝাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয় এলাকাবাসী ও গণমাধ্যমকর্মীদের দাবি, ভূমিদস্যু লোকমান ফকিরের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে বৈধ দলিল ও রেকর্ড অনুযায়ী প্রকৃত মালিককে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে

