
রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ী এলাকায় আদালতের স্থিতিবস্থা থাকা সত্ত্বেও বড়াইবাড়ী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ কাজ চলমান রাখার অভিযোগ উঠেছে।
সহকারী জজ মোছাঃ স্বপ্না মুস্তারিন মামলা নম্বর ৮৯৬/২২-এর মধ্যে ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে স্থিতিবস্থার আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, মামলার চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত জমির দখল, আকার বা ব্যবহার পরিবর্তন করা যাবে না। বিদ্যালয় শুধুমাত্র নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম চালাতে পারবে; নতুন কোনো নির্মাণ বা পরিবর্তন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
মামলার প্রক্রিয়া অনুযায়ী, আদালত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বিবাদী পক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেন দেওয়া যাবে না তা জানাতে নোটিশ দেন। বাদীর আবেদন এবং বিবাদী পক্ষের জবাব পর্যালোচনা করার পর ১ ডিসেম্বর স্থিতিবস্থার আদেশ প্রদান করা হয়।
এছাড়া বাদী আবু মোঃ জুলফিকার অভিযোগ করেছেন, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জোরেশোরে ভবন নির্মাণ চলছে। তিনি বলেন, আদালতের আদেশ স্বেচ্ছায় অমান্য করা হয়েছে। আমি বিজ্ঞ আদালতের কাছে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
৪ ডিসেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, আদালতের স্থিতিবস্থার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল রিয়াদ কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারি শাহাদাৎ হোসেন জানান, টেন্ডারের মাধ্যমে এক কোটি ১৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ৪৫২ টাকার কাজটি পেয়েছি। কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ করার জন্য ঠিকাদার রাঙ্গা ভাইকে দায়িত্ব দিয়েছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর জামান বলেন, আমরা আদালতের আদেশ পেয়েছি। এটি সরকারি প্রকল্প এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে, তারা বিষয়টি ভালোভাবে জানেন।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার বলেন, আমরা বিষয়টি নজরে রাখছি। খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর শিক্ষা নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী ইকবাল জানিয়েছেন, আমি এখনো কোর্টের স্থগিতাদেশ পাইনি। আদেশ পাওয়ার পর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

