
রংপুর প্রতিনিধিঃ রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের উত্তর পানাপুকুর গিড়িয়ার পাড় নামক এলাকার ব্রিজের নিচ থেকে এক মাদ্রাসার শিক্ষকের লাশ উদ্ধার করেছে গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে ওই এলাকার একটি তামাক চাষের জমিতে পানি দিতে গিয়ে এক কৃষক ব্রিজের নিচে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
নিহত রবিউল ইসলামের বড় ভাই মাসুদ বলেন, আমার ভাই মাওলানা মোঃ রবিউল ইসলাম আল মাদরাসাতুল মদীনা পূর্বগোপিনাথ পুর নজিরের হাট মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন । অর্থনৈতিক ভাবে অসচ্ছল হওয়ায় শিক্ষকতার পাশাপাশি অটোরিকশা চালাতেন। তবে অটোরিকশা পুরাতন হওয়ায় ওটা বিক্রি করে নতুন অটোরিকশা নেয়ার কথা ছিল তার। সিটি কর্পোরেশন ১০ নং ওয়ার্ড জগদীশপুর জেলেপাড়ার বাসিন্দা পারভেজ অটোরিকশা বিক্রির কথা বলে মাওলানা মোঃ রবিউল ইসলামকে ফোন দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর আনুমানিক রাত সাড়ে আটটার দিকে অটোরিকশাসহ রংপুর সিও বাজারে নিয়ে যায়।পরে আমারা রাত্রে খোঁজাখুঁজির পর ভোরে পারভেজ ইসলাম এর বাসা জেলেপাড়ায় গিয়ে খোঁজ নিলে পারভেজ এর স্ত্রী বলে আমার স্বামী বাসায় নেই। তখন আমারা চলে গেলে পর্বতিতে আবার খোঁজ নিতে গেলে বাসায় গিয়ে দেখি তার স্ত্রীও বাসায় তালা দিয়ে পালিয়েছে। তারপর আমরা হাজিরহাট থানায় অভিযোগ লিখাতে গেলে সেখানে এক অজ্ঞাত লাশ পাওয়ার খবর শুনে গিয়ে দেখি আমার ভাই লাশ হয়ে পরে আছে।
নিহত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেলে জানা যায়, তার নাম মো. রবিউল ইসলাম (৩০), পিতা- মৃত মোফাজ্জল হোসেন এবং মাতা মারুফা বেগম। নিহত রবিউল ইসলাম রংপুর জেলার হাজির হাট থানার বখতিয়ারপুর গ্রামের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। মাদ্রাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি অটোরিকশা চালাতেন।
পুলিশ জানায়, হাত পা বেঁধে জিহ্বা ও কান কাটা লাশটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে গঙ্গাচড়া পুলিশ।

