
নিউজ ডেস্কঃ- গভীর রাতে প্রবাসীর বসত ঘরের সিঁধ কেঁটে দূর্ধর্ষ চুরি অভিযোগ পাওয়া গেছে।ঘটনাটি ঘটেছে ১৫ ফেব্রুয়ারি রোববার দিবাগত গভীর রাতে বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের দক্ষিন ভালুকসী গ্রামে কাজী আক্তার হোসেনের বাড়ীতে।
ভুক্তভোগী পরিবার ইতালি প্রবাসী কাজী সিরাজ এর স্ত্রী নাদিরা (২৮) বলেন আমার স্বামী ও দেবর কাজী ইদ্রিস তারা প্রবাসে থাকায় আমার দুটি কন্যা সন্তান ও বৃদ্ধ শ্বশুর’কে নিয়ে আমি এই বাড়ীতে বসবাস করছি। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিনের ন্যায় রাতে ঘুমিয়ে পড়ি,আনুমানিক রাত ৩টা সময়ে সিঁধ কেটে চোর ঘরে প্রবেশ করে মালামাল চুরি করার সময় কোন একটা শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়, তখন আমি বুজতে পারি ঘরে ভিতর কেউ চুরির করার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে, এমন অবস্থায় আমি ডাক চিৎকার করলে চোর পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়, আমার ডাক চিৎকার শুনে বাড়ীর আশেপাশের পাড়াপড়শি ছুটে আসে, পরে দেখতে পাই ঘরের সিঁধ কাটা, সিঁধ কাটা স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটা মোবাইল ফোন পাওয়া যায়, আর এই মোবাইল চোর শনাক্ত করতে সক্ষম হই। আমার প্রতিবেশি কাজী সেলিমের পুত্র কাজী লিমন (২৫) চোর হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের মাধ্যমে সমাধান করা হলেও পরবর্তীতে ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে পূর্বের শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমার বাড়ী ঘরের উপর হামলা চালায়, এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে হুমকি ধমকি দিতে থাকে। এমন অবস্থায় আমরা ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে ভয়ে লুকিয়ে থাকি। আমাদের না পেয়ে কাজী সেলিম ও তার ছেলে কাজী লিমন এবং স্ত্রী ইজ্জাতন, আমার বসত ঘরে হামলাসহ আমাদের চলাচলের একমাত্র সরকারি মাটির রাস্তাটা কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটি নামিয়ে দেয়। এমন অবস্থায় আমার পরিবারের সবাই আতঙ্কের আছি।
স্থানীয় গণ্যমান্য ও একাধিক ব্যক্তির সাথে আলাপকালে চুরি হওয়ায় ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
ভালুকসী গ্রামের মুদিব্যবসায়ী কাজী চুন্ন বলেন প্রবাসী সুরুজ কাজীর বাড়ীতে চুরি হওয়ায় ঘটনা সত্যতা শিকার করে বলেন এর আগেও এক ফেরিওয়ালার টাকা ছিনতাই করে কাজী সেলিমের ছেলে কাজী লিমন, ফেরিওয়ালা আমার কাছে অভিযোগ করলে আমি লিমন কাছে জানতে চাইলে লিমন আমার সাথে খুব খারাপ আচরণ করে।
এবিষয়ে কাজী গোলাম মাওলা বলেন গভীর রাতে ডাকচিৎকার শুনতে পেয়ে এলাকার অনেক লোকজন সিরাজের বাড়ীতে আসি এবং চুরি হওয়ায় ঘটনা জানতে পারি, ঘটনাস্থলে পাওয়া মোবাইল ফোন নাম্বার যাচাই বাছাই করে চোর হিসেবে লিমনকে শনাক্ত করা হয়।
একই গ্রামের নুপুর বেগম, ও সিমা বেগম বলেন বেশ কিছুদিন আগেই থেকেই রাতের আধারে প্রবাসী কাজী সিরাজ ভাইয়ের ঘরে চোর আসে এবং তার পালিত হাঁস মুরগী চুরি হয়, ঘরের চালের উপর মাটির চাকা নিক্ষেপ করা হয় এমন অভিযোগ অনেক আগ থেকেই শুনে আসছি তবে ঐদিন রাতে ডাকচিৎকার শুনে এসে দেখতে পাই সিরাজ ভাইয়ের ঘরে চুরি হয়েছে, একদিন পরে জানতে পারি কাজী লিমন চুরি করতে এসে মোবাইল ফোন ফেলে যায় এই প্রমান থেকেই লিমনকে চোর হিসেবে গন্য করা হয়। আমরা এলাকাবাসীর দাবি করছি, কাজী লিমনকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক।
এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে হয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এবিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার এসআই তারেক বলেন একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

