
বিকাশ বিশ্বাস মাধবপুর প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তেলিয়াপাড়া চা বাগান–এ ম্যানেজার বাহাউদ্দিন লিটনের বহিষ্কারের দাবিতে বাগানজুড়ে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে।
জানা যায়, আগামী ২০ মার্চ সার্বজনীন উৎসব উপলক্ষে বাগানের জলাশয় থেকে মাছ আহরণের অনুমতি চাইতে গেলে ম্যানেজার বাহাউদ্দিন লিটন তা প্রত্যাখ্যান করেন। এ সময় তিনি সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি সরজিত পাশিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনাটি দ্রুত বাগানজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টির সত্যতা জানতে বাগানবাসীরা ম্যানেজারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন।
সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি সরজিত পাশি বলেন,
“আমি বিষয়টি কাউকে জানাইনি। পরে কে বা কারা বাগানবাসীর কাছে জানালে তারা ম্যানেজারের কাছে জানতে চান কেন আমাকে গালিগালাজ করা হয়েছে। আমি কোনো অপরাধ না করেও অপমানিত হয়েছি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই এবং ম্যানেজারের বহিষ্কার দাবি করছি। দাবি না মানলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় ৯ মাস আগে বর্তমান ম্যানেজার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাগানে বিভিন্ন ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রায়ই ছোটখাটো বিরোধ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটছে বলে দাবি তাদের।
বাগানবাসীদের ভাষ্য,
“আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। বাগান বাঁচলে আমরা বাঁচব, আর আমরা বাঁচলে মালিকপক্ষও বাঁচবে। তাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এনটিসির পারকুল ও প্রেমনগর চা বাগানেও তার বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় বাগানবাসীরা মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানালে তাকে অন্য বাগানে স্থানান্তর করা হয় বলে জানা যায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাগানবাসীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে প্রায় পাঁচ শতাধিক চা-শ্রমিক কর্মবিরতি পালন করে বাগান এলাকায় মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাগান সভাপতি খোকন তাঁতি, বাগান সেক্রেটারি লালন পাহান এবং সার্বজনীন পূজা উৎসব কমিটির সভাপতি সরজিত পাশি। বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও শ্রমিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে তাদের মধ্যে ক্ষোভ জমে উঠেছে। বিশেষ করে সরজিত পাশিকে গালিগাল করার অভিযোগের পর শ্রমিকদের অসন্তোষ আরও বেড়েছে বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার একদল বাগানবাসী বিষয়টি নিয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে আলোচনায় বসলে তারা সন্তোষজনক কোনো জবাব পাননি। এরপর থেকেই শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাধবপুর থানা অধীন পুলিশ ফাঁড়ির এসআই হান্নান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তিনি শ্রমিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সবাই বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিন, কেউ ঝামেলায় জড়াবেন না।”
বর্তমানে বাগান এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও শ্রমিকদের দাবি পূরণ না হলে আরও কর্মসূচি দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন আন্দোলনকা

