
অনিক কুমার দাস,কুমিল্লা সদর উপজেলা প্রতিনিধি মুলা শীতকালীন সবজি হিসেবে পরিচিত হলেও গোমতীর চরের জমিগুলোতে মুলার চাষ হচ্ছে শীতের আগেই। আগাম এসব মুলায় দাম ভালো পেলেও ফলনে হতাশ গোমতীর চরের কৃষকরা।
(১৩ অক্টোবর)রোজ সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গোমতী নদীর তীরের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কিছু এলাকায় কৃষকদের ব্যস্ততা দেখা গেছে চোখে পড়ার মতো। একেকটি জমিতে ২০-৩০জন শ্রমিক মুলা তুলে বাজারজাত করার কাজ করছেন।
গোমতী নদীর চরের বুড়িচং উপজেলার আমতলী, কামারখাড়া, বালিখাড়া, কাহেতরাসহ কয়েকটি এলাকার জমিতে প্রচুর পরিমাণে মুলার চাষ করা হয়েছে। মুলার পাশাপাশি লাউশাক, লালশাক ও কিছু জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করা হয়েছে। আগাম মুলায় ভালো দাম পেলেও ফলনে খুশি নন কৃষকেরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে গোমতীর চরের জমিগুলোতে কৃষকদের এখন ব্যস্ততা প্রচুর। কেউ জমি থেকে মুলা তুলছেন। কেউ ডোবার পানিতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দলবদ্ধভাবে সেগুলো পরিষ্কার করছেন। কেউ কেউ আইলে তুলে সাজাচ্ছেন। কেউ তুলছেন গাড়িতে। এসব মুলা কুমিল্লার নিমসার বাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালীর বসুরহাটসহ দেশের বিভিন্ন বড় পাইকারি বাজারে বিক্রি করা হয়।
বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. আফরিণা আক্তার জানান যে,গেল বছরের বন্যার পরও চরের জমিগুলোর ফলন ভালো ছিল। এবার আগাম মুলার আবাদের শুরু থেকেই অসময়ে বৃষ্টি হওয়ায় ফলন কিছুটা কম হয়েছে। এছাড়া রোগবালাই ও কৃমির আক্রমণ মূলত বৃষ্টির কারণেই হচ্ছে। রবি ফসল উৎপাদনের সময় আবহাওয়া ঠিক থাকলে আগের মতোই ভালো ফলন হবে।
তবে গোমতীর চরের জমিগুলোর উর্বরতা কমে গেছে। যার ফলে মুলার ফলন নিয়ে হতাশার কথা জানিয়েছেন কৃষকরা। মুলাতে বিভিন্ন রকমের রোগের প্রাদুর্ভাবের ফলে আগের তুলনায় ফলন অনেক কমে গেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান যে, অসময়ে বৃষ্টির কারণে ফসলে রোগব্যাধির আক্রমণ হয়। এখন কিছুটা ফলন কমলেও সামনে রবিশস্যের ফলন ভালো হবে।

