
নিজস্ব প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল): বরিশালের গৌরনদীতে জন্মনিবন্ধন সনদ আটকে রেখে ৫ হাজার টাকা দাবির অভিযোগকে ‘সত্য নয়’ বলে দাবি করেছেন মেসার্স তাওসীফ ডিজিটাল সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মো. তুহিন আকন। এ ঘটনায় হাসিনা বেগম নামে এক নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারী হাসিনা বেগমের দাবি, জন্মনিবন্ধনের কাজের জন্য তুহিন আকনের ডিজিটাল সেন্টারে আবেদন করার পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে সনদটি পৌরসভা থেকে সংগ্রহ করেন তুহিন। পরে সনদ দেওয়ার জন্য তাঁর কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তিনি ১ হাজার টাকা দিতে চাইলেও তুহিন রাজি হননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে অভিযোগের এ বক্তব্য সরাসরি অস্বীকার করেছেন তুহিন আকন। তাঁর দাবি, হাসিনা বেগমের জন্মনিবন্ধন সনদ আটকে রেখে ৫ হাজার টাকা দাবি করার ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, হাসিনা বেগমের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচয় এবং কয়েক বছর আগে তাঁর পরিবারের একাধিক সরকারি ও নাগরিক সেবাসংক্রান্ত কাজ তিনি করে দিয়েছেন।
তুহিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে হাসিনা বেগমের জন্মনিবন্ধন সংশোধনের কাজ, তাঁর ছেলে মো. আনোয়ার হোসেনের জন্মনিবন্ধন অনলাইনে না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী নতুন করে জন্মনিবন্ধনের আবেদন, ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন, তাঁর স্বামীর মৃত্যু নিবন্ধন ও ওয়ারিশ সনদের আবেদন, বিধবা ভাতার আবেদন এবং বসবাসরত বাড়ির পৌরকর পরিশোধের কাজ দুইবার করে দিয়েছেন তিনি। এসব কাজের বিল বাবদ তখন মোট ৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা তাঁকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তুহিন।
তুহিন আরও বলেন, এসব কাজের পর গত দুই-তিন বছর ধরে হাসিনা বেগমের সঙ্গে এ বিষয়ে তাঁর কোনো যোগাযোগ হয়নি। দীর্ঘ সময় পর তাঁর বিরুদ্ধে ইউএনওর কাছে অভিযোগ করার কারণ তাঁর বোধগম্য নয়। তাঁর দাবি, অভিযোগে যে ৫ হাজার টাকা চাওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেটি বর্তমান জন্মনিবন্ধন সনদ আটকে রেখে দাবি করা কোনো অর্থ নয়; বরং কয়েক বছর আগে সম্পন্ন করা বিভিন্ন কাজের পারিশ্রমিকের বিষয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে গিয়ে এক ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বলে বাদি করেন তুহিন। তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তি প্রথমে নিজের পরিচয় না দিয়ে হাসিনা বেগম নামে কাউকে চেনেন কি না এবং জন্মনিবন্ধন আটকে রেখে ৫ হাজার টাকা চাওয়ার বিষয়ে জানতে চান। কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি আমার ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন, আমি বাধা দিলে ওই ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। সাংবাদিকতার বৈধ পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি বলেও দাবি করেন তুহিন। তাঁর মতে, এ ধরনের আচরণ পেশাদার সাংবাদিকদের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।
অন্যদিকে, হাসিনা বেগমও তুহিন আকনের করা একাধিক কাজের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তাঁর ছেলে প্রায় এক বছর ধরে পা ভাঙার কারণে অসুস্থ থাকায় বর্তমানে তিনি আর্থিক সংকটে রয়েছেন। এ কারণে ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করার সামর্থ্য তাঁর নেই এবং তিনি ১ হাজার টাকা দিতে চেয়েছিলেন। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি কোনো বিরোধ বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি চান না। তুহিন আকন কিংবা তাঁর নিজের যেন কোনো ধরনের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রেখে তিনি সমস্যাটির একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য সমাধান চান।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিষয়টির সমাধান হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। অভিযোগে ৫ হাজার টাকা দাবির বিষয়টি সত্য কি না, তা নির্ধারণে ডিজিটাল সেন্টারের আবেদনসংক্রান্ত নথি, জন্মনিবন্ধনের সংশোধন ও আবেদনের রেকর্ড, সংশ্লিষ্ট পৌরসভার তথ্য এবং অর্থ লেনদেনের কোনো প্রমাণ থাকলে তা যাচাই করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে কয়েক বছর আগে হাসিনা বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্য তুহিন আকন যেসব সেবার আবেদন করেছেন বলে দাবি করছেন, সেসব আবেদনের নথি ও সরকারি রেকর্ড পর্যালোচনা করলে অভিযোগের প্রকৃত প্রেক্ষাপটও স্পষ্ট হতে পারে।

