
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
হবিগঞ্জ জেলার সুরমা গ্রামের কৃতী সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আদর্শ শিক্ষক শফিকুল ইসলাম আরজু ছিলেন দেশপ্রেম, মানবতা ও নৈতিকতার এক অনন্য প্রতীক। মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে তিনি দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর সাহসিকতা, ত্যাগ ও দেশপ্রেম আজও নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ শেষে তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেন জাতি গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব—শিক্ষকতা পেশায়। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে শুধু পাঠ্যজ্ঞানই দেননি, বরং সততা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দিয়ে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। একজন ন্যায়পরায়ণ ও আদর্শবান শিক্ষক হিসেবে তিনি সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন।
পারিবারিক জীবনেও তিনি ছিলেন একজন সফল ও দায়িত্বশীল অভিভাবক। তাঁর বড় ছেলে আশরাফুজ্জামান আশিক বাংলাদেশ পুলিশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছোট ছেলে তারেকুজ্জামান একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবায় নিয়োজিত। তাঁর মেয়েরাও নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পিতার আদর্শকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছেন।
স্থানীয়দের মতে, শফিকুল ইসলাম আরজুর পুরো জীবনই ছিল দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। শিক্ষাক্ষেত্রে তিনি যেমন ছিলেন আলোর দিশারি, তেমনি ব্যক্তিজীবনে ছিলেন একজন স্নেহশীল, সৎ ও আদর্শবান মানুষ। তাঁর প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী আজও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করেন।
করোনাকালীন সময়ে তাঁর মৃত্যুতে শিক্ষা পরিবার, মুক্তিযোদ্ধা সমাজ এবং এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। তবে তাঁর আদর্শ, কর্ম এবং দেশপ্রেম আজও বেঁচে আছে তাঁর গড়ে তোলা অসংখ্য শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীর হৃদয়ে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক শফিকুল ইসলাম আরজুর জীবন আমাদের শেখায়—প্রকৃত দেশপ্রেম শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, মানবতা ও সমাজ গঠনের মধ্য দিয়েও একজন মানুষ জাতির জন্য অমর হয়ে থাকতে পারেন।

